কিছু গুরুত্বপূর্ণ দোয়া, যার কল্যাণে আপনার জীবন পরিবর্তন হতে পারে।

দোযখ হতে নাজাত পাবার দোয়া

আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার।

বেহেশত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া:

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।

দুনিয়া ও আখেরাতের সকল পেরেশানি হতে বাচার দোয়া:

হাসবি আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম। 

অর্থ : আল্লাহ তাআলাই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তারই ওপর আমি ভরসা করি। তিনিই মহা আরশের অধিপাতি।’

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় সর্বোত্তম দোয়া-رَبَّنَا اَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِي الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ উচ্চারণ : রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা আজা-বান নার।

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সূরা বাক্বারাহ : আয়াত ২০১)

দুনিয়ার কল্যাণ লাভের দোয়া

সুবহানআল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদীনি, ওয়াজবুরনি, ওয়া আফিনি, ওয়ারযুকনি, ওয়ারফানি।

বিশ লক্ষ নেকির দোয়া

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ দাহু লা শারিকালাহু আহাদান ছামাদান লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

===============================

উপরোক্ত দোয়া সমুহের বিস্তারিত বিবরণ:

দোযখ হতে নাজাত পাবার দোয়া:

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যারা সঠিক উপায়ে তার হুকুম-আহকাম তথা ফরজগুলো পালন করবে তাদের সব নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা বেড়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির জন্য রহমত বর্ষণ করবেন।

হাদিস পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই একটি ছোট্ট আমল ও দোয়ার কথা বলেছেন। যে দোয়ার নিয়মিত আমলে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি মিলবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আল-হারিস ইবনু মুসলিম আত্‌-তামীমী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতার সূত্র বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চুপে চুপে বলেন, ‘যখন তুমি মাগরিবের নামাজ থেকে অবসর হয়ে সাতবার বলবে-اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।’ তুমি তা বলার পর ওই রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে। আর যখন তুমি ফাজরের নামাজ শেষ করবে তখনও অনুরূপ বলবে। অতঃপর তুমি যদি ওই দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।

——————————————————–

জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দুয়াঃ ৩ বার

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ’উযু বিকা মিনান্নার।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ৩ বার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, জাহান্নাম আল্লাহর কাছে দুয়া করে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও”।

তিরমিযিঃ ২৫৭২, ইবনে মাজাহ ৪৩৪০, শায়খ আলবানি এই হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামি ৬২৭৫।

——————————————————–

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় সর্বোত্তম দোয়া:

মুমিন মুসলমানের প্রার্থনা পার্থিব কল্যাণের সঙ্গে পরকালের কল্যাণ কামনা করা। আর এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা প্রার্থনা করে শুধু পার্থিব জীবনের জন্য। মুমিন বান্দা কিভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করবে, কল্যাণ কামনা করবে, এখানে তার স্বরূপ শিক্ষা দিয়েছেন। কারণ সাহায্য চাওয়াও আল্লাহর ইবাদাত। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনায় সর্বোত্তম দোয়া-رَبَّنَا اَتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِي الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া ক্বিনা আজা-বান নার।

অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সূরা বাক্বারাহ : আয়াত ২০১) আমল : কাবা ঘর তাওয়াফের সময় এই দোয়া পড়া ভাল।

——————————————————–