Creative Netrakona

কিছু ক্রিয়েটিভ পাগলের জন্যই বিখ্যাত পাগলের রাজধানী খ্যাত এই নেত্রকোনা। জেলা শহর দেখে এই জেলার মানুষ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা দর্শনীয় স্তান বিচার করলে আপনি ভুল করবেন ।

এই জেলায় জন্মেছেন রত্নগর্ভা মা আয়েশা ফয়েজ যার গর্ভে জন্ম নিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ স্যারের মত গল্পের জাদুকর, জাফর ইকবাল স্যারের মত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ আর আহসান হাবিবের মত খ্যাতীমান কার্টুনিস্ট । এই নেত্রকোনার বুকে জন্ম নিয়েছেন কষ্টের ফেরিওয়ালা খ্যাত প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ, নির্মলেন্দু গুণের মত সমৃদ্ধ কবি, বারী সিদ্দিকীর মত বিশ্বনন্দিত বংশীবাদক, উকিল মুনশি, রশিদ উদ্দিন, চান মিঞার মত মরমী সাধক… কুদ্দুছ বয়াতির মত প্রাণের শিল্পী কিংবা ইদ্রিছ মিয়ার মত বাউল সম্রাট, সালাম, মিরাজ আলী, তৈয়ব আলী, লাল মামুদ, খেলু মিয়া, জালাল খাঁ’র মত উদাসী গায়ক তথা বাউল সাধকদের জন্ম এই নেত্রকোনায় ।

বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের প্রথম কবি কাহ্ন-পা, মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি কঙ্ক, মৈয়মনসিংহ
গীতিকার সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দে, প্রখ্যাত লোকগায়ক ও সংগ্রাহক মনসুর বয়াতি, সংগীতশিল্পী আর স্বরলিপিকার শৈলজারন্জন মজুমদার, আন্তর্জাতিক খ্যাতীসম্পন্ন তৈলচিত্রশিল্পী শশী কুমার হেশ, উচ্চাঙ্গ সংগীতের খ্যাতীমান ওস্তাদ গোপালচন্দ্র দত্ত্ব সহ এই রকম অসংখ্য পাগল জন্মেছেন নেত্রকোনায়।

খালেকদাদ চৌধুরী, রওশন ইজদানী, আব্দুল মজিদ তালুকদার, অধ্যাপক যোগেন্দ্রনাথ তর্কবেদান্ত, মুজিবুর
রহমান খাঁ, মির্জা মোহাম্মদ আল ফারুক, মাহবুব তালুকদার উনারা সবাই এক একজন খ্যাতীমান বহুমাত্রিক পাগল (কবি, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক,
শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক) .ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন করেছিলেন যারা তারা হলেন কমরেড কুন্তল বিশ্বাস, কমরেড মৃনাল কান্তি বিশ্বাস, নলিনী রন্জন সরকার, নরেশ রায়, কমরেড মনি সিংহ(বিখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিক) ও রাজমনি হাজং(বিপ্লবী নারীনেত্রী)।

বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এর জন্ম এই নেত্রকোনা জেলায় । ডাঃ আখলাকুন হুসাইন আহমদ, আব্বাছ আলী খান, আব্দুল খালেক তালুকদার, আব্দুল মজিদ, এম
জুবেদ আলী, আব্দুল মমিন, আবু আক্কাছ, এলাহী নেওয়াজ ও আয়েশা খানম ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের নেত্রকোনার গর্বিত সন্তান ।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক ডঃ আনোয়ার হোসেন, শিক্ষাবিদ ফজলুর রহমান খান, তড়িত্ প্রকৌশল ও পরমানু বিজ্ঞানী ডঃ আব্দুল মতিন, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ডঃ ইল্লাস আলী, প্রফেসর মুর্তুজা খান, গবেষক ডঃ বজলুর রহমান খান, প্রখ্যাত লেখক গবেষক ও নৃতত্ত্ববিদ অধ্যাপক খগেজ কিরন তালুকদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ মোঃ আনিসুর রহমান, লেখক গবেষক ও লোকসাহিত্যবিশারদ সিরাজুদ্দিন কাশিমপুরী, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ও লেখক মোস্তফা জব্বার,প্রখ্যাত লেখক গবেষক ও শিক্ষাবিদ যতীন সরকার। এই
পাগল কিসিমের মানুষগুলোই নেত্রকোনার গর্ব আর নেত্রকোনার অহংকার।

নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার প্রবীণ সাতারু বীরমুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য ৪৩ ঘন্টায় ১৪৬ কি.মি বিরামহীন দুরপাল্লার সাঁতার কেটে রেকর্ড গড়েছেন। তিনি নেত্রকোনা জেলার গর্ব

প্রায় দুই যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও ক্যান্সার নিয়ে গবেষণা করে আসছেন নেত্রকোনার কৃতী সন্তান ডঃ মুজিব রহমান । এরকম হাজারো পাগল নেত্রকোনার বুকে জন্ম নিয়ে দেশের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে।

প্রতিনিয়তই ছোট বড় অসংখ্য পাগলের সৃষ্টি হচ্ছে এই নেত্রকোনায়। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে-ই হয়ত নেত্রকোনার মানুষগুলো অনেকটা পাগল কিসিমের হয়ে থাকে । মাথা খারাপ পাগল নয় কারন নেত্রকোনার মানুষ জাতে পাগল হলেও তালে কিন্তু ঠিক। সব ক্রিয়েটিভ পাগল ।

এই অঞ্চলের মানুষগুলোর মাঝে প্রাকৃতিকভাবেই
ক্রিয়েটিভ পাগল টাইপের হয় । যে পাগলামিতে শুধু নেত্রকোনা-ই নয়, তাদের নিয়ে গর্ব করে পুরো বাংলাদেশ । নিজ নিজ পাগলামিতে তারা এক একজন হয়ে আছেন আলোকিত মানুষ হিসাবে।

নেত্রকোনায় এতসংখ্যক পাগল আছে, যে সবার কথা লিখে উঠতে পারিনি ।অল্প কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছি । সংক্ষিপ্ত বনর্নার জন্য আমি পাগল খুব বেশি দুঃখিত।

নেত্রকোনার মানুষগুলো অনেক সহজসরল, দেখতে খানিকটা বোকা হলেও তারা কিন্তু অনেক চালাক,
অতিথি পরায়ণ, আড্ডা প্রিয় এবং কোমল প্রকৃতির, সহজে আপন করে নেয়ার ব্যাপারটি এখানকার মানুষের জন্মগত স্বভাব। চোখ বন্ধ করে তাদের সাথে সম্পর্ক করতে পারেন । নেত্রকোনার মানুষদের সাথে আত্বীয়তা করে আপনি ধন্য হয়ে যেতে পারেন। আমি গর্বিত আমি নেত্রকোনার সন্তান….

নেত্রকোনার সব ক্রিয়েটিভ পাগলগুলার পরিচয় আর নেত্রকোনার মানুষ কেমন প্রকৃতির হয় তা অন্যকেও জানাতে শেয়ার করে দিন। শেয়ার করে সংরক্ষনে রাখতে পারেন আগামী প্রজম্মের জন্য ।

জানা মতে আপনার এলাকায় কোন ক্রিয়েটিভ পাগলের নাম বাকি থাকলে কমেন্ট বক্সে ঝটাপট লিখে ফেলুন।